কেরালার পথে পারুল! রুক্মিণী-ঋত্বিককে উদ্ধারে বসু পরিবারের মর’ণপণ অভিযান! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রুক্মিণী ও ঋত্বিকের কোনো খোঁজ না পেয়ে পারুল এবং বসু পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। হানিমুনে যাওয়ার পর থেকে তারা একবারও বাড়িতে ফোন করেনি বা কোনো যোগাযোগ রাখেনি, যা পারুলের দুশ্চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পারুল খুব ভালো করেই জানে যে ঋত্বিকের বাবা এবং সান্যাল পরিবারের কর্ত্রী চন্দ্রাবতী সান্যাল ঠিক কতটা ভয়ংকর হতে পারেন। রুক্মিণী ও ঋত্বিকের এই বিয়ে তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। বিশেষ করে চন্দ্রাবতী সান্যালের নিষ্ঠুর ও উগ্র মেজাজ পারুল নিজের চোখে দেখেছে, তাই তাদের শান্ত থাকাকে সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না। তার মনে হচ্ছে, এই নীরবতার আড়ালে বড় কোনো ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে।

এদিকে পারুলের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে রায়ানের মায়ের আচরণের কারণে। তিনি পারুলকেই সবকিছুর জন্য দায়ী করে ভুল বুঝতে শুরু করেছেন। অথচ একটা সময় তিনি নিজেই লোভে পড়ে নিজের মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। পরিবারের এই অভ্যন্তরীণ কলহ এবং পারুলের ওপর অন্যায্য দোষারোপের ফলে বাড়ির পরিবেশ আরও থমথমে হয়ে পড়েছে। নিজের ভুল আড়াল করতে তিনি এখন পারুলের ওপর সব ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, যা পারুলের মানসিক চাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Parineeta, Zee Bangla, Bengali Serial, Bengali Television, Ishani Chatterjee, Uday Pratap Singh, Parineeta New Episode, Parineeta Today's Episode 9 May, Today's Episode, পরিণীতা, জি বাংলা, বাংলা সিরিয়াল, বাংলা টেলিভিশন, পরিণীতা আজকের পর্ব, ঈশানি চ্যাটার্জী, উদয় প্রতাপ সিং, পরিণীতা ৯ মে আজকের পর্ব

অন্যদিকে, রুক্মিণী ও ঋত্বিক বর্তমানে চরম বিপদের সম্মুখীন। তারা চন্দ্রাবতী সান্যালের হাত থেকে বাঁচতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিজেদের লুকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তারা ভেবেছিল পুলিশের কাছে গিয়ে সাহায্য চাইলে হয়তো তারা নিরাপদে ফিরতে পারবে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল তাদের ধারণার বাইরে। চন্দ্রাবতী সান্যাল এবং ঋত্বিকের বাবা অত্যন্ত ধূর্ত হওয়ায় আগে থেকেই থানায় তাদের ছবি পাঠিয়ে রেখেছিলেন। তারা পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন যে, রুক্মিণী বা ঋত্বিক সাহায্য চাইতে এলেই যেন সবার আগে তাদের খবর দেওয়া হয়। পুলিশ যে তাদের সাহায্য করার বদলে শত্রুপক্ষের সাথে হাত মেলাবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেনি।

বিপদ যখন আসন্ন, ঠিক তখনই রুক্মিণী আড়াল থেকে এক পুলিশ অফিসারের ফোনের কথোপকথন শুনে ফেলে এবং বুঝতে পারে যে তারা ফাঁদে পা দিতে চলেছে। নিজের বুদ্ধির জোরে সে দ্রুত সেখান থেকে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং কোনোক্রমে তারা দুজনে পুলিশ স্টেশন থেকে পালিয়ে জীবন বাঁচায়। এই ঘটনার পর তারা বুঝতে পারে যে বাইরের পৃথিবীটা এখন তাদের জন্য কতটা অনিরাপদ এবং আড়ালে থাকা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। প্রতিটি মুহূর্ত এখন তাদের কাছে এক চরম পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: কলকাতা জুড়ে কাঁদছে নচিকেতা…! হেরে গিয়েছে তৃণমূল! ‘রাজার হল খুব অসুখ’ গান ঘিরে রিলের বন্যা! মজার ভিডিও করে কটাক্ষ সৌম্য চক্রবর্তীর!

পরিবারের এমন সংকটময় মুহূর্তে পারুল স্থির থাকতে পারে না। সে ঋত্বিকের বাবার সাহায্য নিয়ে কেরালা যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে, কারণ তার দৃঢ় বিশ্বাস রুক্মিণীরা ওখানেই কোথাও বিপদে পড়ে আছে। এদিকে দিদির নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে রায়ান নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পারুলের ওপর চিৎকার করে ফেলে, যেহেতু এই বিয়েতে পারুলের বড় ভূমিকা ছিল। তবে রাগের মাথায় এমনটা করলেও পরে সে নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং পারুলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। অবশেষে রায়ান ও পারুল ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে, যেভাবেই হোক তারা রুক্মিণী ও ঋত্বিককে এই মরণফাঁদ থেকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনবে।

Back to top button